শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সোনাডাঙ্গার জঙ্গলে

আহমদ মতিউর রহমান

আরো কিছুক্ষণ যাওয়ার পর একটা গাড়ির হেড লাইটের আলো এসে পড়ল ওদের উপর। এ সময় জেগে ছিল আজিম। সে খেয়াল করল যে পথ দিয়ে তারা এসেছে আর ওদেরকে বয়ে আনা ড্রাইভার যে পথে চলে গেছে আলোটা আসছে তার উল্টো দিক থেকে। আর এটা কোনো মাঝারি গাড়ি বা কার হবে। তার মানে অপর দিকে একটা রাস্তা আছে। একটু পর গাড়ির হেড লাইটের আলো পড়ল সবার উপর। চ্যাংদোলা হয়ে বাকি তিন জন ঘুমিয়ে পড়েছে। 

তাদের সামনে এসে গাড়িটা দাঁড়াল। গাড়ি থেকে নেমে এলেন মুখে কাঁচাপাকা দাড়ি আছে এমন এক জন। আজিম উঠে দাঁড়ালো তাকে দেখে ।

: তুমি কে বাবা? জানতে চাইলেন লোকটি। 

কি বলবে ভেবে পেল না আজিম। এই ভোর রাতে কে এল গাড়ি হাঁকিয়ে? চোরাচালানের হোতা না অন্য কেউ? ভালো মানুষ না আগের গাড়ি চালকের মতো ভূত প্রেত, ভেবে পায় না আজিম। পুলিশ যে নয় তা পোশাকই বলে দিচ্ছে। গায়ের জামা কাপড় আর ভদ্রজনোচিত কথার ধরন দেখে আজিম পজিটিভই ভাবলো। বলল-

: আমরা পথ হারিয়েছি। 

: ওহ। আমরা মানে? 

: আমরা চার জন। ওরা আমার বন্ধু।

 à¦¸à¦¬à¦¾à¦° কথা বলে দেয়া কি ঠিক হচ্ছে? ভাবলো আজিম। 

: ভয় নেই বল। তোমরা কোথায় যাচ্ছিলে আর পথ হারালে কিভাবে?

: সে এক ঘটনা।  

: তাই নাকি? যাই হোক আমি পথ বলে দেব। তোমরা কোথা থেকে এসেছ? যাবে কোথায়? এত রাতে তোমরা এখানে এলে কি করে? 

: এসব প্রশ্নও গোয়েন্দাদের মতো মনে হচ্ছে স্বরাজের। তবে কিছু করার নেই। লোকটাকে বলতেই হচ্ছে সব। 

: বলছি বলছি। এই রৌদ্র, স্বরাজ ওঠ। বন্ধুদের তাড়া দেয় আজিম। 

ওরা ধরমর করে উঠে বসে। এ ওর দিকে তাকায়। ততক্ষণে আকাশ ফর্সা হয়ে এসেছে। ভোর হয়ে এল। 

: আচ্ছা তোমরা চলো আমার সাথে যদি আপত্তি না থাকে। এই জঙ্গল মতো জায়গাটা পার হয়ে আমার বাড়ি। সেখানে গিয়েই শুনবো তোমাদের কথা। 

আজিম সায় দেয়। সবাই উঠে বসে লোকটার গাড়িতে। এই ভোর বেলা লোকটা ভূত প্রেত না আর কিছু তা ভাবার সময় নেই কারো। 

মিনিট দশের চলার পর গাড়ি একটা বাড়ির সামনে থামল। বুঝা গেল এটাই ভদ্র লোকের বাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে তিনি ওদেরকে বসার ঘরে নিয়ে বসালেন। এখন বেশ দেখা যাচ্ছে সব কিছু। শীতটা বেশ জাকিয়ে বসেছে। নিজেদের জামা কাপড় ঠিকঠাক করে ওরা সোফায় এলিয়ে পড়ে। 

মি: জাফর আলম গাড়ির সেই লোকটার নাম। তিনি নিজেই পরিচয় দিলেন। বললেন এখানকার একটা ব্যাংকের ম্যানেজার তিনি। এটা তার বাসভবন। 

আজিম সব জানাল তাকে। শুনে মি আলম অবাক হলেন। বললেন, তোমার সিলেট যাবে এখানে তো আসার কথা নয়। এটা সিলেট যাবার ঘুরপথ। আর এটা সত্যি সোনাডাঙ্গা জঙ্গল মতো এলাকা বটে তবে বন্যপশুর কোনো ভয় নেই এখানে। আর ভূতের ভয় তো নেইই। আশপাশে বাড়িঘর কম কিন্তু এটা ভূতুড়ে এলাকা মোটেই নয়। যে তোমাকে এটা বলেছে হয় মজা করার জন্য বলেছে না হয় তোমাদের ভয় পাইয়ে দেয়ার জন্য বলেছে। 

: জি হ্যা। হতেও পারে। ভাগ্যিস আপনি আমাদের দেখতে পেয়েছেন। মাথা ঝুঁকিয়ে কৃতজ্ঞতার সুরে বলল আজিম। 

: আমি শ্রীমঙ্গল থেকে ব্যাংকের একটা লোকাল কনফারেন্স থেকে ফিরছিলাম। তখনি হেডলাইটের আলোয় তোমাদের দেখতে পাই। অবাক হই। যাই হোক এখন তোমরা একটু বিশ্রাম করো। খাওয়া দাওয়া করো। তোমাদের সিলেট যাবার ব্যবস্থা হবে। 

: আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দেব। বলল স্বরাজ। 

: না, না তার দরকার নেই। তোমাদের বিপদ আপাতত কেটেছে সেটাই বড় কথা।   (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ